অনলাইন থেকে টাকা ইনকাম করার সেরা ৮ টি উপায়

শুরুতে আমাদের জানতে হবে অনলাইন আসলে কি? তাহলে চলুন জেনে নেয়া যাক উন্নয়ন সম্পর্কে --

বর্তমান যুগ প্রযুক্তির যুগ। আর এই যুগে আমরা কম বেশি প্রায় সবাই অনলাইন এর সাথে পরিচিত।অনলাইনে আমরা যেমন একে অপরের সাথে যোগাযোগ করতে পারি। অন্যদিকে অনলাইন থেকে টাকাও ইনকাম করতে পারি। অনলাইন থেকে বিভিন্ন উপায়ে টাকা ইনকাম করা যায়। 

অনলাইন থেকে মানুষ খুব সহজে টাকা ইনকাম করছে। আমাদের দেশের লাখ লাখ মানুষ আজ অনলাইন ইনকাম এর উপর নির্ভরশীল। অনলাইন ইনকাম মানেই মুক্ত পেশা। যেটা নিজের অবসর সময়ে করা যায়। এখানে কোনো বাঁধা ধরা নিয়ম নেই, কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই। নিজের ইচ্ছামতো  কাজ করা যায়। 

আমাদের দেশে ও বিদেশে অনেক সাইট আছে যেখান থেকে আমরা অনায়াসেই অনেক অর্থ উপার্জন করতে পারি। আগে মানুষের এই অনলাইন সম্পর্কে খুব একটা ধারণা ছিল না। অনান্য উন্নতশীল দেশের মতো আমাদের দেশ ও আজ ডিজিটাল হয়েছে। বর্তমান যুগে অফিস আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রায় সব ক্ষেত্রেই অনলাইনে কাজ হচ্ছে।

বর্তমানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন করা যায়। যেখানে পূর্বে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে আবেদন করতে হতো। শুধু তাই নয় বর্তমানে অনলাইনে শপিং করা যায়। অনলাইনে খাবার অর্ডার করা যায়। বলতে গেলে বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় সব ক্ষেত্রেই অনলাইনের ছোঁয়া আছে।

কিভাবে  অনলাইন থেকে ইনকাম করবেন?

অনলাইন যেমন একটি যোগাযোগ মাধ্যম ঠিক তেমনি ইনকামেরও মাধ্যম।  আর এই অনলাইনে ইনকাম এর জন্য সর্ব প্রথম যেটা প্রয়োজন সেটা হলো আপনার ধৈর্য ও মনোবল। দ্বিতীয়ত একটা ডিজিটাল ডিভাইস (Digital Device), ইন্টারনেট কানেকশন (Internet Connection)  আপনি যদি কোনো কাজ এ দক্ষ হতে পারেন তাহলে প্রতিমাসে একটা ভালো পরিমানের ইনকাম করতে পারবেন এই অনলাইন থেকে। 

অনলাইনে আয় করার উপায়সমূহঃ

১. ফ্রিল্যান্সিং( Freelancing) করে ইনকামঃ

বর্তমানে সব থেকে বেশি ইনকামের পদ্ধতি হলো ফ্রিল্যান্সিং। আমাদের দেশের বেকারত্ব কমাতে এই খাতটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে। বিদেশে অনেক সাইট আছে যেখানে  দেশের  ফ্রিল্যান্সাররা কাজ করে থাকে।  এবং এই কাজের বিনিময়ে তারা প্রতি  মাসে  প্রচুর পরিমাণে  বৈদেশিক অর্থ উপার্জন করে থাকে।  এই কাজ করার জন্য  প্রয়োজন হলো নির্দিষ্ট  কোনো কাজের  উপর দক্ষতা। 

এটা হতে পারে  ডিজাইনিং (Graphics Design),  ফটো এডিটিং (Photo Editing), ওয়েব ডিজাইনিং (Web Design), ওয়েব সাইট মেকিং (Website Making), কপি রাইটিং (Copywriting), কন্টেন্ট রাইটিং (Content Writing), লোগো ডিজাইন (Logo Design), ইত্যাদি।  এসবের যেকোন একটিতে দক্ষতা অর্জন করতে পারলে আপনিও ফ্রিল্যান্সিং করতে পারবেন। 

২.ব্লগিং (blogging) করে ইনকামঃ 

ব্লগিং অনলাইন আয়ের বেশ পুরাতন মাধ্যম হলেও অনেক কার্যকরী একটা পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে বেশ ভালো পরিমানের টাকা প্রতি মাসে ইনকাম করা সম্ভব। ব্লগিং হলো এক ধরনের নিউস পেপার। যেটা ডিজিটাল ভাবে লেখা হয়ে থাকে। নিউজপেপারে কোন লেখা যেমন সাধারণ মানুষ পড়ে। ব্লগিং ও ঠিক তেমনি। যারা ব্লগিং করে থাকে তাদেরকে ব্লগার বলা হয়। ব্লগিং লেখার জন্য প্রয়োজন হয় একটা ওয়েবসাইট এর। যেখানে ব্লগিং করা হয়ে থাকে। 

প্রয়োজনীয় কোনো বিষয় সম্পর্কে যদি আপনি জানেন তাহলে আপনি ব্লগিং এ সেটা লিখবেন আর সেটা যার জানার প্রয়োজন থাকবে সে এসে সেটা পড়ে যাবে। আপনি এখন যে অনলাইন ইনকাম সম্পর্কে  পড়ছেন এটিও একটি ব্লগ। অতএব বুঝতেই পারছেন বিষয়টা। 

৩.অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং (Affiliate Marketing) ঃ

 অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এই শব্দটা আমাদের কাছে ততটা পরিচিত নয়। তবে পরিচিত না হলেও এই মার্কেটিং এর মাধ্যমে যথেষ্ট পরিমান অর্থ উপার্জন সম্ভব। বর্তমানে সারা বিশ্বেই অনেক জনপ্রিয় একটি অর্থ উপার্জনের মাধ্যম হচ্ছে এই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং।  বাংলাদেশেও আস্তে আস্তে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার এর সংখ্যা বাড়ছে।

এবার আসুন আমরা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং  সম্পর্কে জেনে নেই----

অ্যাফিলিয়েট  মার্কেটিং মূলত ই-কমার্সের মত অর্থাৎ অনলাইনে ব্যবসা করা। অনেক কোম্পানি আছে যারা অনলাইনে তাদের পণ্য গুলো সেল করে থাকে। আর এই পণ্য সেল করার জন্য প্রয়োজন হয় অডিয়েন্সের। যাদের কাছে পন্য গুলো সেল করা হয়। বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়াতে যেমনঃ ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম ইত্যাদিতে অনেক অডিয়েন্স থাকে। আর অডিয়েন্সের  কাছে পণ্যগুলো প্রচার করার জন্য কোম্পানিগুলো কোন একজনকে কাজটি দিয়ে থাকে। বিনিময়ে তাকে সেল করা পন্যের কিছু পারসেন্ট কমিশন  দেয়। এভাবে আপনিও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে ইনকাম করতে পারবেন। 

৪.ইউটিউব থেকে ইমকামঃ

ইউটিউব থেকেও ভলো পরিমাণে ইনকাম করা সম্ভব। আপনিও চাইলে ইউটিউব ভিডিও বানিয়ে ভালো পরিমাণে টাকা ইনকাম করতে পারবেন। 

৫. ফেসবুক থেকে ইনকামঃ

ফেসবুক হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় স্যোসিয়াল মিডিয়া।বর্তমান যুগে আমরা কম বেশি প্রায় সবাই ফেসবুক শব্দ টার সাথে পরিচিত। ফেসবুক একটি জনপ্রিয় যোগাযোগ মাধ্যম। আমরা নিত্য দিনে অনেক সময় এই ফেসবুকে ব্যয় করে থাকি। কিন্তু আপনি কি জানেন এই বিশাল সোশ্যাল মিডিয়াকে অনলাইনে ইনকামের জন্য ব্যবহার করতে পারেন। 

যেমনঃ ফেসবুক পেজ থেকে ইনকাম করা যায়। আমরা যেমন ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করে টাকা ইনকাম করতে পারি। ঠিক তেমনি ফেসবুক পেজে ভিডিও আপলোড করে  টাকা ইনকাম করতে পারি। 

৬. ইনস্টাগ্রাম (Instagram) থেকে ইনকামঃ

ইনস্টাগ্রাম হলো ফেসবুক, টুইটারের মতো একটি যোগাযোগ মাধ্যম। আর এই যোগাযোগ মাধ্যম থেকেও ইনকাম করা যায়। ইনস্টাগ্রামে লাইক ফলো করার মাধ্যমে টাকা ইনকাম করা যেতে পারে।  যেমনঃ গেট লাইক একটা রাশিয়ান সাইট। যেখানে একটা  একাউন্ট খুলতে হয়। তারপর ইনস্টাগ্রাম এড করে লাইক ফলো করে ইনকাম করা যায় এরকম আরো অনেক সাইট আছে যেখান থেকে ইনস্টাগ্রাম এর মাধ্যমে ইনকাম করা যায়। এছাড়া ইনস্টাগ্রাম এও এড তৈরির মাধ্যমে টাকা ইনকাম করা যায়। 

৭.অনলাইন সার্ভে(Online Survey) করে ইনকামঃ

আসুন তাহলে জেনে নেই আসলে এই সার্ভে সাইট কি? এর কাজ কি? এবং কিভাবে এর থেকে ইনকাম করা যায়?

সার্ভে মানে হলো জরিপ করা।

অনেক কোম্পানি আছে যারা গ্রাহকের কাছ থেকে ফিডব্যাক পাওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের সার্ভে করে থাকে। যারা মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন খাবার ও পশু পাখি ইত্যাদির উপর জরিপ করে থাকে, শুধু তাই নয়! এই প্রতিষ্ঠান গুলো তাদের প্রতিদিনের চলাফেরা থেকে শুরু করে একটি পরিবার সম্পর্কে অনেক কিছুই বিভিন্ন ভাবে জরিপ নিয়ে থাকে, আর এটাকে আমরা বাংলা ভাষায় বলে থাকি জরিপ/গবেষণা/মতামত, যা আমাদের কাছে সার্ভে নামে পরিচিত।

সার্ভে সাধারনত paid হয়ে থাকে। আপনি চাইলেই সার্ভে করে প্রতি মাসে ভালো অঙ্কের ইনকাম করে ফেলতে পারেন।  বড় বড় কোম্পানিগুলো তো একটি সার্ভের জন্য ১০০ ডলার পর্যন্ত খরচ করে থাকে। এইসব সার্ভে গুলো নির্দিষ্ট একটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে থাকে।

এর জন্য আপনাকে প্রথমে ওই নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে একাউন্ট খুলতে হবে। তারপর আপনার সব ইনফর্মেশন দিয়ে অ্যাকাউন্ট আপডেট করে নিলেই আপনি কয়াজ শুরু করার জন্য প্রস্তুত। তবে প্রতিটি সার্ভেতেই আপনি কুয়ালিফাই হতে পারবেন না। শুধু মাত্র যে সার্ভে গুলো আপনার অ্যাকাউন্ট-এ দেওয়া তথ্যের সাথে মিলবে সেগুলোই আপনি করতে পারবেন।

link

৮.ড্রপশিপিং করে অনলাইন ইনকামঃ

ড্রপশিপিং (Dropshipping) অনলাইন ব্যবসার অন্তর্গত একটি কাজ যার মাধ্যমে খুব সহজেই অনেক টাকা ইনকাম করা সম্ভব। এই কাজ টা একদম অন্য রকম যেখানে পন্য না কিনেও ব্যাবসা করা যায়। বিভিন্ন ওয়েবসাইট আছে যেখান থেকে ডাউনলোড করে সেটা নিজে অনলাইনে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখিয়ে পন্য গুলো সেল করা যায় আপনিও চাইলে  ড্রপশিপিং করে ইনকাম করতে পারেন। 

অবশেষে আমি বলতে চাই--

আপনার মূল্যবান সময়কে নষ্ট না করে আপনি যে কাজটা পারেন সেই কাজ শুরু করে দেন। আশা করি অবশেষে সফল হতে পারবেন। অনেকে বলেন অনলাইন থেকে টাকা ইনকাম করা যায় না এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা।

আপনি যদি জানেন কিভাবে ইনকাম করতে হয় তাহলে অবশ্যই আপনি অনলাইন থেকেও খুব ভালো পরিমাণে টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

আর একটা কথা জানাতে চাই সেটা হলো অনলাইনে স্ক্যামাদের থেকে সতর্ক হন। অনলাইনে অসংখ্য স্ক্যামার ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। যারা আপনাকে বড় বড় কাজের লোভ দেখিয়ে বলবে এর জন্য আপনাকে কিছু টাকা দিতে হবে। আমরা অনেকে তাদের ফাঁদে পা দিয়ে ফেলি। তাই যারা টাকার বিনিময়ে কাজ দিতে চাইবে তাদের থেকে সতর্ক থাকবেন।

আমাদের এই আর্টিকেলটি ভালো লাগলে অবশ্যই বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন। আর কোন মতামত থাকলে অবশ্যই কমেন্ট করবেন।

Enjoyed this article? Stay informed by joining our newsletter!

Comments
Md Abrar Hamim - মে ৬, ২০২২, ১:৫২ PM - Add Reply

https://workedbd.com/user/my-campaign

You must be logged in to post a comment.

You must be logged in to post a comment.

লেখক সম্পর্কেঃ

I am article Writer