এখানে কুরবানির ধারণা, কুরবানির পটভূমি, কুরবানির বিধিবিধান ও নিয়মাবলি বর্ণণা করা হয়েছে

Websoriful ওয়েবসাইটের সবাইকে জানাই সালাম।  আশা করি আল্লাহর রহমতে সবাই ভালো আছেন। websoriful  ইনকাম আমাদের ইনকাম করার সুযোগ দিয়েছে বলে আমি আনন্দিত। আর websoriful এর সাবইকে অগ্রিম ইদ মুবারক। আজকে ইদুল আযহা সম্পর্কে কিছু আলোচনা করব।  এখন শুরু করা যাক-

         ------- কুরবানির ধারণা -------

কুরবানির অর্থ ত্যাগ বা উতসর্গ ইত্যাদি। ইসলামের ভাষায় জিলহজ মাসের ১০ তারিখ থেকে ১২ তারিখ সন্ধ্যা পর্যন্ত আল্লাহর নৈকট্য  লাভের জন্য যে পশু জবাই করা হয় তাকে কুরবানি বলে।
বর্তমানে যে কুরবানি প্রথা প্রচলিত আছে তা হযরত ইব্রাহীম (আঃ) এর সময় থেকে চলে আসছে। এটি আল্লাহু নেকট্য লাভের অন্যতম মাধ্যম। এটি উওম ইবাদত। রাসূলুল্লাহ (সঃ)বলেন, কুরবানির দিনে রক্ত প্রবাহিত করার চেয়ে প্রিয় কাজ আল্লাহর নিকট আর কিছু নেই।ঐ ব্যক্তি কিয়াস এর দিন কুরবানির পশুর শিং,ক্ষুর,ও লোমসহ নিয়ে হাজির হবে।কুরবানির রক্ত মাটিতে পড়ার আগেই তা আল্লাহর নিকট বিশেষ মর্যাদার স্থানে পৌঁছে যায়। অতএব,তোমরা নিজেকে কুরবানির দ্বারা পবিএ কর।
রাসুলুল্লাহ (সঃ) আরও বলেন,সামর্থ্য না থাকা সও্বেও যে কুরবানি করল না সে যেন আমাদের ইদগাহের নিকটবর্তী না হয়।

       -------- কুরবানির পটভূমি-------

হযরত ইব্রাহিম (আঃ) কে আল্লাহ তায়ালা বহুবার বিভিন্নভাবে পরিক্ষা করেছেন। সকল পরিক্ষায় তিনি উওীর্ণ হয়েছেন।এবার তিনি এক অগ্নীপরিক্ষার সম্মুখীন হলেন।এক রাতে স্বপ্ন দেখলেন তিনি, পুএ ইসমাইলকে কুরবানি করতে আল্লাহ তাকে আদেশ করেছেন। বৃদ্ধ বয়সের একমাএ সন্তান ইসমাইল অপেক্ষা দুনিয়াতে অধিকতর প্রিয় আর কি হতে পারে ? অনেক চিন্তা ভাবনা করে তিনি শেষ সিদ্ধান্তে পৌঁছান, আল্লাহ যাতে খুশি হন তাই তিনি  করবেন। পবিএ কুরআনে উল্লেখ রয়েছে তখন তিনি পুএ ইসমাইলকে বললেন, তিনি (ইব্রাহীম) বললেনঃহে বঃতস।আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, তোমাকে আমি জবাই করছি।এখন তোমার অভিমত কি ? তিনি (ইসমাইল)  বললেন, হে আমার আব্বা !  আপনি যা আদিষ্ট হয়েছেন তাই করুন। আল্লাহ ইচ্ছা করলে আপনি আমাকে ধৈর্যশিলদের অন্তভূক্ত পাবেন।
ছেলের এ সাহসিকতার উওর পেয়ে নবী ইব্রাহীম(আঃ) খুশি হলেন।আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য তিনি পুএ ইসমাইলের গলায় ছুরি চালালেন। এবারের পরিক্ষাতে ইব্রাহীম  (আঃ) উওীর্ণ হলেন।

আল্লাহ তায়ালা খুশি হয়ে বেহেশত থেকে একটি দুম্বা এনে ইসমাইল এর জায়গায় ছুরির নিছে শুইয়ে দিলেন। হযারত ইব্রাহীম (আঃ) এর পরিবর্তে দুম্বা কুরবানি হয়ে গেল।এ অপূর্ব ত্যাগের ঘটনাকে মনে করে রাখার জন্যই তখন হতে কুরবানি প্রথা চালু হয়েছে। এটি আজ মুসলিম সমাজে পবিএ অনুষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃত।

--কুরবানির নিয়মাবলি ও বিধিবিধান--

১/ জিলহজ মাসের ১০ তারিখ ফজর হতে ১২ তারিখ সন্ধ্যা পর্যন্ত যদি কেউ নির্দিষ্ঠ পরিমাণ সম্পদের মালিক হয় তবে তার উপর কুরবানি ওয়াজিব।মুসাফির এর উপর কুরবানি ওয়াজিব নয়।

২/জিলহজ মাসের ১০, ১১, ও ১২  তারিখ তিন দিন কুরবানির সময়।এ তিন দিনের যেকোনো দিন কুরবানি করা হয়। তবে প্রথম দিন কুরবানি করা উওম।

৩/ ইদুল আযহার নামাজের আগে কুরবানি করা সঠিক নয়। নামাজ আদায় এর পর কুরবানি করতে হয়।

৪/সুস্থ, সবল, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা, মহিষ,উট ইত্যাদি গৃহপালিত পশু দ্বারা কুরবানি করতে হয়। গরু, মহিষ, উটে একসাথে সাতজন শরিক হয়ে কুরবানি করা যায়।

৫/কুরবানি ছাগলের বয়স কমপক্ষে  ১ বছর হতে হবে। গরু মহিষ কমপক্ষে ২ বছর হতে হবে। উটের বয়স কমপক্ষে পাচ বছর হতে হবে। দুম্বা ও বেড়ার বয়স কমপক্ষে ১ বছর হতে হবে।
তবি ছয় মাসের বেশি বয়সের দুম্বার বাচ্ছা যদি এরূপ মোটাতাজা হয় যে,  এক বছরের অনেকগুলো দুম্বার মধ্যে ছেড়ে দিলে চেনা যায় না তবে সেরূপ বাচ্ছা দিয়ে কুরবানি জায়েজ।কিন্তু ছাগলের বাচ্ছা বয়স ১ বছর না হলে কুরবানি জায়েজ হবে না।

৬/ কুরবানি গোশত সাধারণত তিন ভাগ এর এক ভাগ গরিব মিসকিনকে, একভাগ আত্মীয় স্বজনকে দিতে হয় এবং একভাগ নিজের জন্য রাখা উওম।

৭/নিজ হাতে কুরবানি করা উওম।

৮/কুরবানি প্রাণি দক্ষিণ দিকে মাথা রেখে কিবলামুখী করে ধারালো অস্ত্র  দ্বারা
বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবর বলে জবাই করতে হয়।

প্রত্যেক মুসলমান এর উচিত কুরবানির সমায় একাগ্রতার সাথে উওম পশু কুরবানী করা। তাতে তারা অনেক সওয়াব পাবে।পরস্পরের মধ্যে আন্তরিকতা বাড়বে এবং হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি হবে।

Enjoyed this article? Stay informed by joining our newsletter!

Comments

You must be logged in to post a comment.

লেখক সম্পর্কেঃ